আজিজ সুপার মার্কেট, শাহবাগ, ঢাকা, বাংলাদেশ
০১৮৫৭৭৭৭৪৮৪

Author Detail

Language: বাংলা
Available: N/A

বাহাউদ্দীন চৌধুরী

Total Books : 1

প্রবীণ সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা, ভাষাসৈনিক, মুক্তিযোদ্ধা, পথিকৃৎ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব সাইফুল ইসলাম বাহাউদ্দীন আহমদ চৌধুরী বরিশাল জেলার মেহেন্দীগঞ্জ থানার উলানিয়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১৯৩১ সালের ৩১শে অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম আলাউদ্দীন আহমদ চৌধুরী ছিলেন উলানিয়ার জমিদার। মাতা মরহুমা সৈয়দা জামিলুন্‌নেসা সুলতানা চৌধুরী ছিলেন বরিশালের শায়েস্তবাদ নবাবাড়ির কন্যা। স্ত্রী মরহুমা প্রফেসর আমিনা চৌধুরী ছিলেন অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ স্টাফ কলেজের প্রথম মহিলা মেম্বার, ডাইরেকটিং স্টাফ (যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদায়) এবং লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে শিক্ষা কাউন্সিলর। জ্যেষ্ঠ পুত্র শহীদুল ইসলাম আশফাক আহমেদ চৌধুরী গ্রেট বৃটেনে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কর্মরত। কনিষ্ঠ পুত্র শাহেদুল ইসলাম নুসরাত আহমদ চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর।

জনাব বাহাউদ্দীন চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স গ্রাজুয়েট। স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনার সময় রাজনৈতিক কারণে বহিষ্কৃত হন। ছাত্র থাকাকালীন সময়ে তিনি ভাষা আন্দোলনসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করায় দীর্ঘকাল কারাভোগ করেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম ফিল্ম সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। নাট্য-আন্দোলনসহ সকল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পথিকৃৎ কর্মী হিসাবে তিনি ছায়ানট, বুলবুল ললিতকলা একাডেমী, সাহিত্য সংসদ ইত্যাদি সংগঠন প্রতিষ্ঠার সঙ্গে জড়িত। ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা স্থায়ী সদস্য।

১৪৪৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে তিনি 'দৈনিক সংবাদ' পত্রিকায় সহ-সম্পাদক হিসাবে সাংবাদিকতা পেশায় যোগ দেন। তিনি রিপোর্টার হিসাবে দৈনিক 'মনিং নিউজ' পত্রিকায় কাজ করেন। পরে ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভার আমলে ঢাকা থেকে পুনঃপ্রকাশিত দৈনিক 'ইত্তেহাদ' পত্রিকায় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বার্তা-সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৬ সালের ৭ই  জানুয়ারি তিনি সহকর্মিনী আমিনা হোসেনকে বিয়ে করেন। একই বছর আগস্ট মাসে পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের উপসচিব পদে কাজ করেন। পাকিস্তানের প্রথম সামরিক সরকারের আমলে আইনমন্ত্রী বিচারপতি মুহাম্মদ ইব্রাহীমের একান্ত সচিব হিসাবে কাজ করার সময় তিনি ১৯৬২ সালে সরকারি চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। পরে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান কর্তৃক পুনরুজ্জীবত আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি সম্মিলিত বিরোধী দলের মনোনীত প্রার্থী হিসাবে ঢাকার আজিমপুর এলাকা থেকে বিডি মেম্বার নির্বাচিত হন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসাবে তিনি ছয় দফা দাবি প্রণয়নে সহায়তা করেন। তিনি ১৯৬৬ সালে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগ কাউন্সিল সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে ছয় দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেন। ১৯৭১ সালে দেশের অভ্যন্তরে থেকে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

জনাব চৌধুরী ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব এবং অল্প দিন পরে ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যান ও এফডিসি-র ব্যবস্থাপক পরিচালক ও চেয়ারম্যান হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৮ সালে তিনি সরকারি চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেন। ১৯৮০ সালে সম্পাদক হিসাবে দৈনিক 'গণকণ্ঠ' পত্রিকায় যোগ দিয়ে পুনরায় সাংবাদিকতা পেশায় ফিরে আসেন। তিনি দৈনিক 'বার্তা' পত্রিকার সম্পাদক, দৈনিক 'আজাদ' ও দৈনিক 'দিনকাল' পত্রিকার উপদেষ্টা-সম্পাদক এবং দৈনিক 'লালসবুজ' পত্রিকার প্রধান সম্পাদক হিসাবেও কাজ করেন।

মৃত্যু, ঢাকা, ১৬ই মে ২০১২।

Translated books

Edited Books

All Books

All Books