কাজী মোতাহার হোসেন Qazi Motahar Hossain

কবি নজরুলের সুহৃদ, মুসলিম সমাজের মুক্তবুদ্ধিচর্চার অন্যতম কাণ্ডারী কাজী মোতাহার হোসেনের জন্ম নদীয়া জেলার (বর্তমান কুষ্টিয়া) ভালুকা থানার (বর্তমান কুমারখালি) অন্তর্গত লক্ষ্মীপুর গ্রামে, ১৮৯৭ সালের ৩০শে জুলাই, তাঁর মাতুলালয়ে। মাতার নাম তসিরননেসা, পিতা কাজী গোহরউদ্দীন আহমদ। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার (বর্তমান রাজবাড়ী) পাংশা থানার বাহাদুরপুর গ্রামে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় বি.এ. অনার্স (১৯১৯) ও এম.এ. (১৯২১) পাশ করে, পরে কলকাতা বিশ্বদ্যিালয় থেকে তিনি গণিতে এম.এ, (১৯৩৯) পাশ করেন। তত্ত্বাবধায়কের সাহায্য ছাড়াই তথ্যগণিতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচ.ডি (১৯৫০) ডিগ্রি অর্জনের বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

১৯২১ থেকে ’৭৫ সাল পযর্ন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন । ১৯৭৫ থেকে ১৯৪১ সালে তাঁর মৃত্যুকাল পর্যন্ত তিনি  বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক ছিলেন। কর্মজীবনে ১৯৫৫ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি বিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত ছিলেন ‘ইনস্টিট্যুট অব স্ট্যাটিসটিক্যাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং’-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক।

‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’-এর সদস্য হিসাবে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন এবং সেই সমারজর মুখপাত্র ‘শিখা’-র সঙ্গে ১৯২৬ থেকে ১৯৩৫ সাল পর্যন্ত সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৫০ সাল থেকে সম্পাদনা করেন ‘দিলরুবা’ পত্রিকা। ১৯৪৯ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত ‘পাকিস্তান সাহিত্য সংসদ’-এর সভাপতি হিসাবে কাজ করেন। কাজী মোতাহার হোসেনের প্রথম গ্রন্থ ‘সঞ্চরণ’ (১৯৩৭) রবীন্দ্র-প্রশংসাধন্য হয়েছিল। বাংলা একাডেমী চার খণ্ডে তাঁর রচনাবলী প্রকাশ করেছে।

‘বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার’ (১৯৬৬), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত সম্মানসূচক ডি.এসসি. (১৯৭৪, ‘স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার’ (১৯৭৯) ছাড়াও ‘নাসিরউদ্দীন স্বর্ণপদক’ (১৯৭৭), ‘মুক্তধারা সাহিত্য পুরস্কার’ (১৯৮০) ইত্যাদি সম্মাননা লাভ করেছেন।

বাংলাদেশের ‘দাবাগুরু’ কাজী মোতাহার হোসেন দাবা খেলায় সাতবার সর্বভারতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক দাবা প্রতিযোগিতায়ও তিনি পুরস্কার পেয়েছেন।

তথ্যগণিতের মৌলিক গবেষণা এবং সাহিত্য রচনার জন্য কাজী মোতাহার হোসেন চির স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

১৯৮১ সালের ৯ই অক্টোবর তাঁর জীবনাবসান হয়।